রক্তে ঝরা চিরুকুট

ধ্বংস স্তূপের বাহিরে অনেক মানুষ। হটাৎ বাহির হয়ে আসল একটা লাশ। একজন বোনের লাশ। হাতের মধ্যে সাদা কাগজে ২ লাইন লেখাঃ

“আম্মা-আব্বা আমারে মাফ
কইরা দিউ। তোমাগোরে আর ঔষুধ কিনে দিতে পারবনা। ভাই তুই আম্মা আব্বার দিকে খেয়াল রাখিছ”

হতভাগা মা চিঠি আর মেয়ের
ছবি নিয়ে একটু কাঁদছে আর বেহুঁশ পড়ছে। এরকম দৃশ্য দেখার পরে আর কোন মানুষ হয়ত চোখের পানিটুকু আটকিয়ে রাখতে পারবেনা।

………………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

ক) ভাই আমার মাকে বইলেন,আমাকে মাফকরে দিতে,আমার বাড়ি পিরোজপুর,হুলার হাট। ভাই আমি মারা গেলে লাশ টা বাড়িতে পাঠাইয়েন…

খ) ভাই দরকার হলে আমার পা কেটে বের করেন,তবুও আমাকে বাচান,আমি আরএই যন্ত্রনা সইতে পারিনা।
গ) ভাই আমাকে একটা হাতুড়ে দেন,আমি নিজেকে বের করতে পারব…
ঘ) শ্বাস নিতে পারছিনা,লাশের গন্ধে মারা যাবো,ভাই একটু অক্সিজেন আনতে পারবেন।
চ) ভাই আমাকে এখান থেকে বের করেন,আমার একটা ২ বছরের ছেলে আছে,ওর জন্য আমাকে বাচান,ওরে দুধ খাওয়াতে হবে। এগুলো রানা প্লাজার ভেতরে আটকা পড়া কিছু অতি সাধারন মানুষের বাচার আকুতি..…
ওরা কোটি টাকা,বাড়ি ও গাড়ি চায় না। শুধু প্রিয় মুখ গুলোরকাছে ফিরে যেতে চায়। আমরা কি আগামীতে এই দৃশ্য বার বার দেখার অপেক্ষায় আছি?
নাকি আমরা পারবো এই ইতিহাস এখানেই থামিয়ে দিতে..…

………………………………………………………………………………………………………………………………………………………

রানা প্লাজার মৃত্যুগহ্বর থেকে উদ্ধার পাওয়া অনেকেই শুনিয়েছেন এ রকম একেকটি মর্মস্পর্শী আর শিউরে ওঠার মতো কাহিনি।
হাসপাতালে নেওয়ার পর একটু সুস্থ হয়ে রত্না বেগম বললেন, ‘মাথার উপরেই ছাদ। কান্দে আর হাতে গরম পাইপ লাইগা রইছে। পুইড়া যাইতেছিলাম। তয় নড়বার পারতেছিলাম না। অন্ধকার। ছোড ছোড নিঃশ্বাস নিছি। চোখ বুইজা খালি কানছি।’
উদ্ধার পাওয়ার বর্ণনা দিয়ে রত্না বলেন, ‘হঠাৎ খটখট আওয়াজ আসে। ‘কেউ আছেন?’ ‘কেউ আছেন?’ বইলা কারা জানি চিৎকার করতেছিল। আমিও ‘বাঁচান’ ‘বাঁচান’ বলে চিল্লান দেই। পরে কয়েকটা ছেলে দেওয়াল কাইট্যা আমারে হাসপাতালে নিয়া আসে।’
ভবনধসের দিন বুধবারই উদ্ধার হন পোশাককর্মী নূপুর বেগম (২৫), ভারের নিউ দ্বীপ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন তিনি। বাঁচার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় একপর্যায়ে নিজের আটকে পড়া হাত কেটে ফেলবেন বলে ঠিক করেছিলেন নূপুর। সাহসী এই নারী তাঁর অভিজ্ঞতা শোনালেন এভাবে: ‘এক হাতেরও কম জায়গায় আইটকা ছিলাম। মাথা দিয়া রক্ত পড়তেছিল। আমার ডান হাতের ওপর একটা লাশ। আর লাশটার উপরে দেওয়াল। হাত বাইর করতে পারতেছিলাম না। ছোট একটা ফাঁক দিয়া দেখি, অনেকেই হাঁটতেছে। বাম হাত একটু বাইর কইরা আমি চিৎকার দিয়া কইলাম, ভাই কিছু একটা দেন, ডাইন হাতটা কাটি।’
নূপুর জানান, তাঁকে বাইরে থেকে একটা ছোট বঁটি দেওয়া হয়। কিন্তু তা দিয়ে হাত কাটতে পারেননি। অনেকক্ষণ পরে দেওয়াল তুলে কয়েকজন তরুণ তাঁকে উদ্ধার করেন।

………………………………………………………………………………………………………………………………………………………

একটা মহিলা… নাম তার রোজিনা…

এত বড় বিল্ডিং ধসে পড়লো… অথচ, তার হাত ভাঙ্গে নি, পা ভাঙ্গে নি… সামান্য আহতও হয় নি….

তবে সে এমনভাবে আটকা পড়েছে যে, সে বিপরীত দিকে কাত হতে পারছে না.. চিত্‍ হতে পারছে না… সামান্য শরীর চুলকাতে পারছে না.. চিন্তা করুন তো, আপনি নিজে একদিকে কাত্‍ হয়ে কতক্ষণ শুয়ে থাকতে পারবেন ??

কাল থেকে সেই মহিলা কারো সাথে কথা বলতে পারে নি… হয়তো মৃত্যুর প্রহর গুনছিলো.. চোখ দিয়ে অর্নগল পানি পড়ছিলো.. সেই পানি কানের ভিতর ঢুকে গেলেও সে কিছু করতে পারছিলো না… এমন অবস্থায় আপনি কি কি চিন্তা করতেন ??

মহিলাটি হয়তো চিন্তা করছিলো, সারা জীবন কি কি করেছে… তার মা এখন কি করছে ?? বাপ এখন কি করছে ?? বাচ্চাটা কি করছে ??

এসব ভাবতে ভাবতে অবশেষে হঠাত্‍ একজন মানুষ চিত্‍কার করে বললো, কেউ কি বেঁচে আছেন ??

মহিলা বললো, হ্যাঁ.. আমি বেঁচে আছি… অথচ, উদ্ধারকারী মানুষটাও তাকে খুঁজেই পাচ্ছে না…

সে যাই হোক… অবশেষে যখন খুঁজে পেল…. তখন দেখল মহিলাকে উদ্ধার করতে হলে পুরো বিল্ডিংটাই ভাঙ্গতে হবে !! আর বিল্ডিং ভাঙ্গতেও যে ৬ দিন লাগবে !! উদ্ধারকারী টিম আসার পরও সকাল থেকে রোজিনা ঐ অবস্থাতেই গোঙাচ্ছে…..

বলুন তো, এই অবস্থায় কার চোখে পানি আসবে না ??

খোদার কসম.. এনটিভিতে রোজিনার কিম্ভুতকিমাকার টাইপের আটকা পড়ার দৃশ্য দেখে আমি রোজিনার কষ্টের কথাই ভাবছিলাম… আর, এই পোস্টটা রেডি করছি, কাঁদছি আর ঘরের ছাদের দিকে তাকাচ্ছি… এই বুঝি ছাদটা ভেঙ্গে পড়লো !!

………………………………………………………………………………………………………………………………………………………..

আচ্ছা সাভারে উদ্ধার কাজে ভিতরে যাচ্ছেন বা কাজ করছেন কয়জন …… ???

ধরলাম সর্বোচ্চ ২০০০ জন ।
তো আসেন একটা হিসাব করি

ফেসবুকে সহ বিভিন্ন জায়গায় দেখছি বলা হচ্ছে এই মুহূর্তে জুরুরি দরকার
দরকার অক্সিজেন ,টর্চ ,জুস ,মেডিকেল গ্লোভস ও মাস্ক ।

এখন ধরলাম ভিতরে জীবিত মানুষ ২০০০ আর বাইরে কাজ করছেন ২০০০ ( জানি ১০০০ করেও হয়তো হবে না )

এখন এই ৪০০০ মানুষের জন্য যদি জনপ্রতি ৩ টা করেও যদি ১২০০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনা হয় , যার প্রতিটার সর্বোচ্চ মূল্য ৮৩০ টাকা করেও হয় টাকা সর্বোচ্চ ১ কোটি ২০লাখ টাকা খরচ হয়

এবার আসি টর্চে , চার্জের টর্চে চার্জ থাকে না , বিধায় ব্যাটারির টর্চের কথা বলছেন অনেকেই ; আচ্ছা ব্যাটারির টর্চ আর মনে করেন ডজনখানেক বা ২ দিন চলার মত ব্যাটারি কিনলেও সর্বোচ্চ খরচ ৫০০ আর ২০০০ উদ্ধারকারীর জন্য মোট ব্যাটারি খরচ ১০ লাখ টাকা

জুস এইখানে আহত আর উদ্ধারকারী সবার জন্য না হয় জনপ্রতি ৫০০ টাকার করে জুস কিনলে খরচ ২০ লাখ টাকা

মেডিক্যাল গ্লাভস আর মাস্কের দাম মিলিয়ে ১০+৫ = ১৫ টাকা । এইগুলো ও নাহয় ২০০০ উদ্ধারকারীর জন্য ৫ টা করে অর্থাৎ ১০০০০ পিসের দাম ১.৫ লাখ টাকা

মোট খরচ সর্বোচ্চ = ১,২০,০০০০ + ১০,০০,০০০ + ২০,০০,০০০ + ১,৫০,০০০ = ১,৫১,৫০,০০০ = দেড় কোটি একান্ন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা

আমি তো সর্বোচ্চ হিসেব দিয়েছি ; আসলে এর অর্ধেক ও হয়তো লাগত না ।

There are no comments yet

Why not be the first

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: