kodor

জেনে নিন লাইলাতুল কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য

বিডিকষ্ট ডেস্ক

 

লাইলাতুল কদরকে উর্দু ও ফার্সিতে শবে কদর বলে। শব অর্থ রাত। কদর অর্থ সম্মান। সুতরাং শবে কদর অর্থ সম্মানিত রাত। আবার কদরের অন্য অর্থ হচ্ছে তকদির।

এ শব্দটি ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে। অতএব, শবে কদরের অনেক গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

এ রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে স্বয়ং আল্লাহপাক পূর্ণাঙ্গ সূরা কদর নাজিল করেছেন। এই সূরায় আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি মহিমান্বিত রাতে। শবে কদর সম্পর্কে আপনি জানেন কি? শবে কদর হলো হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতারা ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

শবে কদরের ফজিলত

লাইলাতুল কদরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- এ গৌরবময় রজনীতে মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও মুক্তির সনদ ঐশীগ্রন্থ ‘আল কোরআন’ অবতীর্ণ হয়েছে। শবেকদর সম্পর্কে কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সুরা কদর : ১-৩) এটি শ্রেষ্ঠতম রাত। এ রাতের ইবাদতে রয়েছে সবিশেষ গুরুত্ব। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম : ৭৬০; বুখারি : ২০১৪)

সাতাইশতম রজনী কি শবে কদর?

শবেকদর সম্পর্কে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও বিতর্কমুক্ত অভিমত হলো, শবেকদর শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একান্ত যদি এটা কারো জন্য সম্ভবপর হয়ে না ওঠে, তাহলে সাতাইশতম রাত্রিতে কিছুতেই গাফেল থাকা উচিত নয়। বিশেষ করে ওই দিন মাগরিব ও এশার নামাজ মসজিদে গিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আদায় করলে হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী সেও শবেকদরের ফজিলত পেয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ বলে থাকেন, সাতাইশতম রজনীকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া অবৈধ কিংবা বেদআত! অথচ এর সপক্ষে হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামদের আমল রয়েছে।
হজরত শুবা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) শবেকদরের রাত্রিতে বলেন, ‘আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি তা সম্পর্কে অবগত আছি। (আর তা হলো সাতাইশতম রাত্রি) কেননা রাসুল (সা.) এ রাতে আমাদের নামাজে দাঁড়াতে আদেশ করতেন। (মুসলিম, হা: ৭৬২) অনুরূপ ধারণা পোষণ করতেন হজরত মুয়াবিয়া (রা.), হজরত ইবনে আব্বাস (রা.), হজরত হাসান (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.)। (কুরতুবি)

শবে কদরের আমল

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের শবেকদর সম্পর্কে অবগত করানোর জন্য বের হয়ে এসেছিলাম। কিন্তু অমুক অমুক ব্যক্তির ঝগড়ার কারণে আমাকে তা ভুলিয়া দেওয়া হয়েছে।’ (বুখারি) সুতরাং দুই ব্যক্তি বা পরিবারের মধ্যকার ঝগড়াবিবাদ মিটিয়ে দেওয়া এ রাতের অন্যতম ইবাদত।
তা ছাড়া হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! যদি আমি শবেকদর পেয়ে যাই, তবে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? রাসুল (সা.) বলেন, এ দোয়া পড়বে- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নকা আফুয়্যুম তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাকারী এবং আপনি ক্ষমাকে পছন্দ করেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।’

এ ছাড়া পবিত্র এ রাতে যেকোনো নফল ইবাদত করা যেতে পারে।

Tags: , ,

There are no comments yet

Why not be the first

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: