bd-pratidin-f-01a

অফিসিয়াল পোশাক-আশাক আইডিয়া

BDcost Desk:

 

অফিসের পরিবেশটাই একদম ভিন্ন। বাইরে চলাচল করতে বা উৎসবের জন্য আমরা যেমন ক্যাজুয়াল আউটলুক বেছে নিই তেমনি অফিসের গাম্ভীর্য ও দায়িত্বশীল আবহ ধরে রাখতে চাই ফরমাল আউটলুক। অফিসিয়াল পোশাক নিজের ইমেজকে ফুটিয়ে তোলে। আপনার পদমর্যাদা ও রুচিবোধ দুটোই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তাই অফিসিয়াল পোশাক নির্বাচনের সময় আলাদা নজর থাকা জরুরি। সাধারণ পোশাকের চাইতে অফিসিয়াল বা ফরমাল পোশাক, যেমন কোট, টাই আর সু মানুষ অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসীভাবে ব্যবহার করে। অফিসিয়াল পোশাক সম্পর্কে জানাচ্ছেন— ফেরদৌস আরা

নিজেকে জানান দেয় আপনার পরিধানের পোশাক। আপনার ব্যক্তিত্ব, পদমর্যাদা, রুচিবোধ সবই ফুটে ওঠে পরিধানের পোশাকে। পেশাগত কারণে মানুষকে বাইরে ছুটতে হয়। কর্মস্থলে পরতে হয় নির্দিষ্ট ফরমাল পোশাক। যেসব অফিসে নির্দিষ্ট পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা নেই সেখানেও পরা চাই রুচিশীল পোশাক। অফিসে ফরমাল পোশাকের বিকল্প নেই। কর্মস্থলে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা কাজেরই একটি অংশ। পেশা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই পোশাক বাছাই করা কাজের ক্ষেত্রে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

একজন ব্যক্তির পোশাক তার ব্যক্তিত্বকে উপস্থাপন করে অন্যের কাছে। আর কর্মক্ষেত্রে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একেকজনের পেশা একেক ধরনের। যেমন অনেককে অফিসে চেয়ার টেবিলে বসে সারা দিন কাজ করতে হয়, কারও কারও ক্ষেত্রে আবার বাইরে দৌড়াদৌড়ির কাজটাই বেশি, অনেককে কাজের খাতিরে অনেকের সঙ্গে দেখা করতে হতে পারে। তাই পোশাক বাছাই করতে হবে কাজের ধরন বুঝে। যাদের বাইরে কাজ বেশি থাকে তাদের উচিত আরামদায়ক এবং হালকা পোশাক পরা। এতে গরমে অস্বস্তি কম লাগবে এবং এমন রংয়ের পোশাক বেছে নিতে হবে যেন সহজে ময়লা বোঝা না যায়।

তবে কর্পোরেট অফিসগুলোতে কাজের ক্ষেত্রে ফরমাল পোশাক বেছে নেওয়া উচিত সব সময়। বিভিন্ন অফিস যেমন— ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা অন্যান্য কর্পোরেট অফিসের ক্ষেত্রে ফরমাল পোশাক বাধ্যতামূলক। সে ক্ষেত্রে অফিসের নিয়ম বুঝে পোশাক বেছে নিতে হবে। ফরমাল শার্ট-প্যান্টের ক্ষেত্রে অবশ্যই শার্ট ভালোভাবে প্যান্টে ‘ইন’ করে পরতে হবে এবং শার্টের বোতাম আটকে নিতে হবে। সঙ্গে মানানসই জুতা পরতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে সবকিছু যেন পরিপাটি থাকে।

পোশাকের ক্ষেত্রে মেয়েদের পোশাক বাছাইয়ের অপশনই বেশি। ফরমাল পোশাক পরতে হলেও মেয়েরা বেছে নিতে পারেন শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরাও ফরমাল শার্ট-প্যান্ট পরতে পারেন।

আপনাকে মনে রাখতে হবে অফিসিয়াল ও কর্পোরেট অফিসে কিন্তু সব ধরনের পোশাক চলে না। আপনি যদি ক্যাজুয়াল কোনো পোশাকও পরেন তাতেও চাই একটা অফিশিয়াল ভাব। মার্জিত পোশাক-আশাক যে কোনো কর্পোরেট অফিসের জন্য একদম বাধ্যতামূলক। অফিস বুঝে আপনার ড্রেসকোডটি জেনে নিন। চাই পরিষ্কার ও মানানসই পোশাক। অফিসে পরার পোশাকটি অবশ্যই পরিষ্কার থাকতে হবে। অনেকের খুব ঘাম হওয়ায় গাঢ় রঙের শার্টে সাদা দাগ পড়ে যায়। বিশেষ করে এখন গরমের সময় এটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই চেষ্টা করবেন অফিসে পরা কাপড়টি প্রতিদিন ধুয়ে ফেলতে। আর পরপর দুদিন একই কাপড় অফিসে না পরাই ভালো। শার্ট ও প্যান্ট বদলে বদলে পরবেন।

ক্যাজুয়াল শার্ট কেনার আগে অসংখ্য শপ থেকে মূল্য যাচাই করতে ভিজিট করুন >>> Casual Shirt

অফিসের পোশাকটি সবসময় ইস্ত্রি করে পরার চেষ্টা করবেন। অনেকে তাড়াহুড়ো থাকায় কুঁচকানো ভাঁজ করা পোশাক পরেই অফিসে চলে যান। এটা করবেন না।

এমন পোশাক পরবেন তবে ফিট মানে আবার আঁটসাঁট পোশাক পরতে যাবেন না। অফিসের পোশাকের ক্ষেত্রে বেশি খোলামেলা বা বেশি টাইট কোনোটাই মানানসই না। পোশাকের রং অফিসের ফর্মাল পোশাকটি অবশ্যই রঙচঙে হবে না।

সবসময় মার্জিত রঙের পোশাক বাছাই করবেন যেমন— ব্রাউন, বেজ, পিস, সাদা বা কালো, নেভিব্লু, আকাশি বা হালকা বেগুনি রঙের পোশাক বাছাই পরতে পারেন। গরমের দিনে অফিসের পোশাকের জন্য প্যাস্টেল শেড বা হালকা রঙের পোশাক বাছাই করুন। খুব জমকালো রঙের পোশাক পরলে তা শালীন মনে হবে না। পোশাকের পাশাপাশি অলঙ্কারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অনেকেই আছেন হাতে আংটি, হাতে ব্রেসলেট পরতে পছন্দ করেন এবং পরেনও। কিন্তু অফিসের কালচারের সঙ্গে কি এ জিনিসগুলো যায় কিনা তা বুঝতে হবে।

প্রতিদিন ফরমাল পোশাক পরলে একটু বিরক্ত লাগতেই পারে। তাই অনেক অফিসেই দেখা যায় সপ্তাহে একদিন সবাই ক্যাজুয়াল পোশাক পরে আসেন। কিন্তু তাই বলে মার্জিত পোশাক ছেড়ে দেওয়া চলবে না। টি-শার্ট আর জিন্স পরে অফিসে যাওয়া নয়।

আপনি স্যুট পরতে না চাইলে অন্তত ব্লেজার বা জ্যাকেট অথবা দুটোর মাঝামাঝি কিছু একটা পরতে পারেন। হাফ হাতা শার্ট না পরে ফুল হাতা শার্ট পরবেন। শার্টের রং গাঢ় বা সলিড হতে হবে। আর সঙ্গে পরবেন গাঢ় রঙের প্যান্ট। প্যান্টের মধ্যে লিনেন বা গ্যাবার্ডিন কাপড়ের প্যান্ট পরতে পারেন।

পোশাকের ব্যাপারে আগে অনেকে নজর দিত না; কিন্তু আধুনিক এই কর্পোরেট যুগে দক্ষতার পাশাপাশি চাই স্মার্টনেস।

ক্যাজুয়াল শার্ট কেনার আগে অসংখ্য শপ থেকে মূল্য যাচাই করতে ভিজিট করুন >>> Casual Shirt

খেয়াল রাখুন

কিছু কিছু পোশাক অফিসে না পরাই ভালো। যেমন— টি-শার্ট, ফ্রক স্টাইলের টপস ইত্যাদি কর্পোরেট অফিসের সঙ্গে বেশ বেমানান।

>> উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সামনে যাওয়ার আগে অবশ্যই শার্ট বা কোটের বোতাম ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে।

>> দৌড়ানোর জুতা পরে কখনো অফিসে যাওয়া উচিত নয়।

>> অফিসে সব সময়ই মাপমতো বানানো পোশাক পরা জরুরি। নিজের মাপের চেয়ে ছোট বা বড় পোশাক পরা উচিত নয়। এতে দেখতে খারাপ দেখাবে।

>> অফিসের জন্য সবচেয়ে সাধারণ, জনপ্রিয় এবং চলতি রঙের পোশাকে নিজের ওয়্যারড্রোব সাজিয়ে তুলুন।

>> ‘ক্লাসিক’ পোশাকের ওপর বিনিয়োগ করুন। কারণ এগুলো বিভিন্ন উপলক্ষে পরিধান করা যায়, দামেও সাশ্রয়ী।

>> নিজের ব্যক্তিত্ব আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলতে ঘড়ি, টাই, জুতা, ব্যাগ, গয়না ইত্যাদি অনুষঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

টিপস

অফিসে থাকুন ফিটফাট

পোশাক ব্যাপারটি সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। অফিসের পরিবেশের সঙ্গে মাননসই পোশাক শুধু নিজের ইমেজ নয়, নিজের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে তোলে। পোশাক নির্বাচনের পাশাপাশি মানানসই রঙের মতো আরও কিছু বিষয় রয়েছে, এগুলোও অফিসিয়াল পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় ৯ পরামর্শ এখানে—

♦ ডেনিমের সঙ্গে রঙের ছটা মেশান। ডেনিম প্যান্ট পরলে তার সঙ্গে মানানসই উজ্জ্বল রঙের একটি শার্ট পরুন।

♦ খুব ভালোভাবে সেলাই করা একটি স্যুট শার্টের সঙ্গে পরা যেতে পারে। টাই ছাড়াই এটি পরা যায়।

♦ এক ধরনের রঙের নানা পোশাকের সমন্বয় একটা আকর্ষণীয় ভিজুয়াল টেক্সচার তৈরি করতে পারে।

♦ শার্টের সঙ্গে পাতলা একটি টাই পরা যেতে পারে। এটি অনেকটা ক্যাজুয়াল পোশাকের ইমেজ এনে দেবে।

♦ পুরনো আমলের ভারি ব্রিফকেসের বদলে নিন হালকা ও পাতলা ব্রিফকেস। এ ছাড়া ব্রিফকেসের বদলে নিতে পারেন নরম চামড়ার ব্যাগ।

♦ ফিতাযুক্ত জুতা অফিসের জন্য ক্লাসিক্যাল জিনিস। কিন্তু এখন ফিতা ছাড়াও বেশকিছু জুতা অফিসে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

♦ উগ্র পারফিউম নয়, ব্যবহার করুন সফট পারফিউম। পারফিউম বাছাই এ ক্ষেত্রে যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিমিতিবোধ প্রয়োজন।

♦ লেদার-স্ট্র্যাপের ঘড়ি অফিসের জন্য হতে পারে ভালো পছন্দ। আপনার জার্মিন ঘড়ি থাকলেও সেটা জিমের জন্যই বরাদ্দ রাখুন। অবশ্যই অফিসের পোশাকের সঙ্গে মানানসই হতে হবে ঘড়ি।

♦ অফিসিয়াল সফরে নিন হ্যান্ডসাম রোলার ব্যাগ। এগুলো যেমন দীর্ঘ সফরের জন্য নানা জিনিস দিয়ে বোঝাই করা যায়, তেমন হালকাও হয়। আর এতে থাকে ল্যাপটপ ও মোবাইলের মতো যন্ত্র রাখার মতো আলাদা ব্যবস্থা।

বিঃ দ্রঃ রেসিপি, স্টাইল, রূপচর্চা, গৃহসজ্জা, টেকনোলজি ও ইসলামিক জীবন,ইত্যাদি। বাংলা ব্লগ রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডিকষ্ট্

Tags: ,

There are no comments yet

Why not be the first

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: