aloevera-is-good-for-hair

শীতকালে কোমল ও সিল্কি চুলের জন্য দারুণ হেয়ারপ্যাক

BDcost Desk:

 

চুলের দৈর্ঘ্য ও ঘনত্ব যেমনই হোক না কেন, সকলেই চান কোমল ও সিল্কি চুল। শীতের সময় আসলেই কমে যেতে থাকে চুলের কোমলতা। কারণ, শুষ্ক আবহাওয়া ত্বক ও চুলের কোমলতা, আর্দ্রতা ও নমনীয়তা নষ্ট করে দেয়। যার ফলে, খুব অল্প সময়ের মাঝে চুলে তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। শুধুমাত্র শীতকাল যে চুলের এই সমস্যা তৈরি জন্য দায়ী তা কিন্তু নয়। পরিবেশ দূষণ, রোদের ক্ষতিকর রশ্মি, প্রতিদিনের ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরণের পণ্যের কেমিক্যাল প্রভাবও এই সমস্যা তৈরি করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। এই সকল কারণ একসাথে মিলে ত্বক ও চুলের জন্যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে ফেলে।

আপনার চুল কি খুব রুক্ষ, শুষ্ক, নিস্প্রাণ এবং অনুজ্জ্বল হয়ে উঠছে? সমস্যাগুলো থাকলেও দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। সঠিক উপাদানের মিশ্রনে সঠিক হেয়ারপ্যাক তৈরি করে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারলে, চুলের এই সমস্যাগুলো একেবারেই চলে যাবে। শতভাগ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা চমৎকার এই হেয়ারপ্যাকটির প্রতিটি উপাদান চুলের জন্য আলাদা আলাদাভাবে উপকারী।

হেয়ারপ্যাক তৈরি যে সকল উপাদান প্রয়োজন
– এক চা চামচ আমলকীর পাউডার।
– এক চা চামচ শিকাকাই।
– এক চা চামচ রিঠা পাউডার।
– আধা চা চামচ মধু।
– একটি ডিম।

মধুর গুণাগুণ

চুলের গোড়া যখন তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে তখন চুল ও চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এর ফলে চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে মধু খুব দারুণ কাজ করে থাকে। প্রাকৃতিক উপাদান মধুতে থাকা উপাদান সমূহ চুলের গোড়ার আর্দ্রতা তৈরিতে ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়াও, চুল শক্ত করতে এবং চুলের আগা ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ করতে মধু বিশেষ উপকারী উপাদান।

ডিমের গুণাগুণ

চুলের কোমলতা বৃদ্ধিতে ডিমকে সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত ও উপকারী উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। ডিমে থাকা পুষ্টি এবং প্রোটিন চুলকে শক্ত করতে সবচেয়ে বেশী কাজ করে থাকে। এই সকল উপাদান শুধুমাত্র চুলের পুষ্টি জোগাতে কাজ করে তাই নয়। এই সকল পুষ্টিকর উপাদান চুলকে নমনীয় করে তুলতেও কাজ করে।

শিকাকাই পাউডারের গুণাগুণ

ভিটামিন-সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ এবং কোলাজেন সমৃদ্ধ শিকাকাই পাউডার হলো চুলের জন্য অন্যতম উপকারী একটি হারবাল উপাদান। নিয়মিত শিকাকাই ব্যবহারে, চুলের রুক্ষভাব চলে যায় এবং চুল দারুণ সিল্কি হয়ে ওঠে।
আমলকীর পাউডারের গুণাগুণ

আমলকীর পাউডারকে বলা হয়ে থাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউজ। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলকে সোজা রাখতে এবং চুলে পুষ্টি জোগাতে অন্যান্য সকল উপাদানের চাইতে দ্রুত কাজ করে থাকে। আমলকীর পাউডার চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে বলে চুলের গোড়ার আর আর্দ্রতা ফিরে পায়। এতে করে চুলের শুষ্ক ও রুক্ষভাব কমে যায় অনেকটা।

হেয়ারপ্যাক যেভাবে তৈরি করতে হবে

প্রথমে একটি পরিষ্কার বাটি নিতে হবে। এরপর প্রতিটি উপাদান একদম সঠিক পরিমাণে একসাথে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি ভালোভাবে তৈরি করার জন্যে একটি চামচের সাহায্যে ভালোভাবে নাড়তে হবে। সকল উপাদান একসাথে ভালোভাবে মিশে গেলে হেয়ারপ্যাক তৈরি হয়ে যাবে।

হেয়ারপ্যাক যেভাবে ব্যবহার করতে হবে

তৈরিকৃত হেয়ারপ্যাকটি একদম চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালোভাবে লাগাতে হবে। পুরো চুলে প্যাকটি লাগানো হয়ে গেলে হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে মাথার ত্বকে কয়েক মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে। এরপর ৪০-৪৫ মিনিট সময়ের জন্য চুলে প্যাকটি রেখে দিতে হবে। হালকা শুকিয়ে গেলে পানির সাহায্যে চুল ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। যদি শ্যাম্পু ব্যবহার করতে চান তবে অবশ্যই হারবাল শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত দুইবার এই হেয়ারপ্যাক ব্যবহারে চুল একদম কোমল ও সিল্কি হয়ে উঠবে।

বিঃ দ্রঃ রেসিপি, স্টাইল, রূপচর্চা, গৃহসজ্জা, টেকনোলজি ও ইসলামিক জীবন, ইত্যাদি। বাংলা ব্লগ রেগুলার আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বিডিকষ্ট্

Tags: , ,

There are no comments yet

Why not be the first

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Anti-Spam Quiz: